শাস্ত্র হিসাবে ভূগোল

Job ID: 35692065

Budget: ₹12,500 – ₹37,500 INR

প্রাচীন গ্রীক পন্ডি ত এরাটোস্থেনিস (276-194 B.C.) সর্বপ্রথম ভূগোল শব্দটি ব্যবহার করেন। এটি দুটি গ্রীক শব্দের (জেও ও গ্রাফি ) মিলনে গঠিত। ‘জিও’ শব্দের অর্থ পৃথিবী ও ‘গ্রাফি ’ শব্দের অর্থ বর্ণনা বা লেখা। সুতরাং জিওগ্রাফি হল মানুষের আবাস এই পৃথিবীর বর্ণনা। এই শব্দটি ভারতে প্রথম ব্যবহার করা হয় আর্যভট্ট-এর সূর্যসিদ্ধান্ত নামক গ্রন্থে ।
The Penguin Dictionary of Geography (A.N.Clerk),1998 অনুসারে জি ওগ্রাফি হল — ‘This study that deals with the material and human phenomena in this space accessible to human beings and their instrument, especially the patterns of, and variations in their distribution in that space, on all scales in the past or present.’
Alexander von Humboldt (1769-1859) এর মতে — ‘Geography is the science related to nature... in it or
started and describe all things found on earth.’
Carl Ritter (1779-1859) এর মতে — ‘It deals with the globe in all it's features phenomena and relation as an
independent unit and shows the connection of this unified whole with man and man's creators.’
Richard Hartshorne 1969 সালে জি ওগ্রাফি র যে সংজ্ঞা দেন, তা সর্বজনগ্রাহ্য— ‘Geography is concerned to
provide an accurate, orderly and rational description and interpretation of the variable character of the
Earth's surface.’
শাস্ত্র হিসেবে ভূগোল
মানবজাতি র সৃষ্টি র আদি লগ্ন থে কে ই বলা যে তে পারে ভূগোল শাস্ত্রের সূত্রপাত। পরিবেশের সঙ্গে মানি য়ে চলার জন্য মানুষ তার চারপাশে র পরি বে শ সম্পর্কে সচে তন হয়, তাকে বুঝতে চে ষ্টা করে ও পরি বে শে র বি ভি ন্ন অবস্থায় ভিন্ন রকমের প্রতি ক্রি য়ার মাধ্যমে নি জে র অস্তি ত্ব বজায় রাখার লড়াই করে এবং এভাবে ই জন্মলাভ করে ভূগোল নামক বিষয়টি। তবে নগর সভ্যতার সূত্রপাতে র আগে ভূগোল বিষয়টির বিশেষ উন্নতি ঘটেনি । ভূগোল শাস্ত্রের পথিকৃৎ হিসেবে গ্রিকদের আগে ও ভূগোলে এশিয়াবাসীদের অবদান লক্ষ্য করা যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীতে প্রাকৃতিক ও সামাজিক বি জ্ঞানের যে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে ছিল তার ফলেই বিজ্ঞানের একটি শাখা হিসেবে ভূগোলের পুনর্জন্ম ঘটে । বর্তমানে ভূগোল বলতে এমন একটি বিষয় কে বোঝায় যা মানুষের জগৎ রূপে ভূপৃষ্ঠের পরিবর্তনশীল চরিত্রের বর্ণনা ও ব্যাখ্যার সঙ্গে সঙ্গে মানুষ সহ সমগ্র প্রাণীজগতের সাথে প্রাকৃতিক, সামাজিক এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিশ্লেষণ করে । পিটার হ্যাগেট 1965 সালে ভূগোলশাস্ত্রের চিন্তাধারা ও দর্শনকে পাঁচটি মূল বি ষয়বস্তু কেন্দ্রিক হিসেবে বর্ণনা করেন। সেগুলি হল- (১) আঞ্চলিক বৈষম্য (Areal Differentiation) (২) ভূদৃশ্য (Landscape) (৩) মানুষ প্রকৃতির সম্পর্ক (Man-Environment relationship) (৪) দৈশিক
বন্টন (Spatial Distribution) এবং (৫) দৈশিক জ্যামিতি (Spatial Geometry)।
ভূগোলের পরিধি
প্রাচীনকাল থেকেই ভূগোলের বিষয়বস্তু ও পরিধি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে বহু বিচিত্র উপাদানের মধ্যে সম্পর্ক। এই বহুবিচিত্র উপাদানগুলি কে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানব গোষ্ঠী। ভূগোলের পরিধি একাধারে প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ও একাধারে সামাজিক বিজ্ঞানের মধ্যে বিস্তৃত।
সাধারণভাবে ভূগোলের আলোচনার পরিধি হল-
(১) পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদান গুলির বর্ণনা ও ব্যাখ্যা
(২) বিভিন্ন অঞ্চলের বর্ণনা
(৩) মানব সমাজের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যকে চিহ্নিত করা
(৪) মানব সমাজের ওপর প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব কে বোঝা
৫) সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা
(৬) বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয় কি ভাবে হয় তা বোঝা।
৭) দৈশিক বণ্টনকে বোঝা।
৮) দৈশিক আচরণ সংক্রান্ত সূত্র গঠন
(৯) দৈহিক গঠন ও সংগঠন ব্যাখ্যাকারী মডেল নির্মাণ।

ভূগোলের বিষয়বস্তু
প্রাকৃতিক ও সমাজবিজ্ঞানের সম্মিলনে গড়ে উঠে ছে ভূগোল। ভূগোলে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ উপযোগী উপাদান উভয়েরইশক্তি ও ক্রিয়া এবং তাদের প্রভাব সমীক্ষা করা হয়। ভূপৃষ্ঠে প্রাকৃতিক পরিবেশ এবং মানুষের সঙ্গে সম্বন্ধযুক্ত সবকিছুই সমীক্ষা করা। এই অর্থে ভূগোল প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, মানবীয় বিজ্ঞান এবং সমাজবিজ্ঞান সমূহকে পরস্পরে র সঙ্গে যুক্ত করে । প্রকৃতি বি জ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় যেমন- গণিত, পদার্থবিদ্যা, রসায়নবিদ্যা, জীববিদ্যা,
প্রাণীবিদ্যা এবং সমাজ বি জ্ঞানে র বি ভি ন্ন বি ষয় যে মন- ইতিহাস রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সমাজতত্ত্ব; এছাড়া পরি বে শ বি জ্ঞান,
অর্থনীতি , পরিসংখ্যানবিদ্যা, ভূবিদ্যা ইত্যাদি বিষয়গুলি থেকে সংশ্লেষিত হয়ে ভূগোল শাস্ত্র হিসাবে পূর্ণতা লাভ করেছে । ভূগোল শাস্ত্রে ব্যবহৃত বেশ কিছু গাণিতিক সমীকরণ, জটিল তত্ব এবং সমাজবিদ্যার বেশ কিছু দর্শন, তত্ত্ব ও দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় ঘটেছে ।
Related categories: Article Writing Reviews Content Writing